ভারতের জাতীয় পতাকা: ১৫ আগস্ট বনাম ২৬ জানুয়ারি - জানুন সঠিক নিয়ম

স্বাধীনতা বনাম প্রজাতন্ত্র দিবস: পতাকা উত্তোলনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

স্বাধীনতা দিবস বনাম প্রজাতন্ত্র দিবস

জাতীয় পতাকা ওড়ানোর রীতিনীতি ও ঐতিহাসিক পার্থক্যের বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভারতের স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট) এবং প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি) — এই দুটি দিনই আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই দুই বিশেষ দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পদ্ধতি, প্রধান অতিথি এবং উৎসবের মেজাজে যে পার্থক্য রয়েছে, তা প্রতিটি ভারতবাসীর জন্য গর্ব ও শিক্ষার বিষয়।

১. পতাকা উত্তোলনের পদ্ধতি: Hoisting বনাম Unfurling

১৫ আগস্ট (Flag Hoisting): এদিন পতাকাটি খুঁটির নিচ থেকে টেনে উপরে তোলা হয় এবং তারপর তা উন্মুক্ত করা হয়। এটি ব্রিটিশ শাসনের পরাধীনতা থেকে একটি নতুন স্বাধীন দেশের উত্থানের প্রতীক।

২৬ জানুয়ারি (Flag Unfurling): এদিন পতাকাটি খুঁটির একদম ওপরেই ভাঁজ করা অবস্থায় বাঁধা থাকে। দড়ি টেনে শুধু সেই ভাঁজটি খুলে উন্মোচন করা হয়। যেহেতু ভারত ইতিমধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল, তাই পতাকা নতুন করে উপরে তোলার প্রয়োজন হয় না।

২. প্রধান অতিথি: প্রধানমন্ত্রী বনাম রাষ্ট্রপতি

জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠানে কারা পতাকা ওড়াবেন, তাতেও রয়েছে সাংবিধানিক নিয়ম:

  • স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট): এদিন পতাকা উত্তোলন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতির পদ ছিল না, তাই প্রধানমন্ত্রীই প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
  • প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি): এদিন পতাকা উন্মোচন করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের সাংবিধানিক প্রধান, তাই সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিনে তিনিই এই দায়িত্ব পালন করেন।

৩. রাজ্য স্তরের পার্থক্য: মুখ্যমন্ত্রী বনাম রাজ্যপাল (নতুন পয়েন্ট)

কেন্দ্রের মতো রাজ্য স্তরেও একই নিয়ম কাজ করে। স্বাধীনতা দিবসে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পতাকা উত্তোলন করেন। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্র দিবসে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল (যিনি রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি) পতাকা উন্মোচন করেন।

৪. অনুষ্ঠানের স্থান ও কুচকাওয়াজ

স্বাধীনতা দিবস: দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় অনুষ্ঠানটি হয়। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

প্রজাতন্ত্র দিবস: অনুষ্ঠানটি হয় দিল্লির কর্তব্য পথে (আগের রাজপথ)। এদিন ভারতের সামরিক শক্তি এবং বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশাল কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়।

৫. বিদেশী অতিথি বা Chief Guest

প্রজাতন্ত্র দিবসের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো একজন বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো। স্বাধীনতা দিবসে সাধারণত এমন কোনো বিদেশী অতিথি আমন্ত্রণ জানানোর প্রথা নেই।

৬. বিটিং রিট্রিট (Beating Retreat Ceremony)

প্রজাতন্ত্র দিবসের উৎসব ২৬ জানুয়ারি শেষ হয় না। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ২৯ জানুয়ারি 'বিটিং রিট্রিট' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। স্বাধীনতা দিবসের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট সমাপনী অনুষ্ঠান নেই।

তুলনার বিষয় স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট) প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি)
পরিভাষা পতাকা উত্তোলন (Hoisting) পতাকা উন্মোচন (Unfurling)
জাতীয় স্তরে কে? প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি
রাজ্য স্তরে কে? মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপাল
অবস্থান নিচ থেকে ওপরে তোলা হয়। ওপরেই বাঁধা থাকে।
স্থান লালকেল্লা কর্তব্য পথ
সতর্কতা: পতাকা যে দিনেই ওড়ানো হোক না কেন, সূর্যাস্তের আগে সসম্মানে নামিয়ে রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।

Comments

Popular posts from this blog

৮ম পে কমিশন ও ডিএ বৃদ্ধি ২০২৬: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় সুখবর! একলাফে কতটা বাড়বে আপনার বেতন?

Step-by-Step Guide to MMLSAY Registration (with screenshots)

Assam Government Holiday List 2026: Official Calendar, Festivals & PDF