ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৬ ক্রিকেট রাজনীতি: বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতার দীর্ঘ ইতিহাস
১৯৫২ থেকে ২০২৬: বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকতার পূর্ণাঙ্গ দলিল
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে একটি উপনিবেশ হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। রাজনৈতিক বঞ্চনা থেকে শুরু করে আধুনিক ক্রিকেটীয় ষড়যন্ত্র—প্রতিটি ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতা আজ ইতিহাসের অংশ।
ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা (১৯৪৭-১৯৭১)
১. ১৯৭১-এর বর্বরোচিত গণহত্যা
২৫শে মার্চ রাতে আলোচনার আড়ালে নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালায়। এই জঘন্যতম অপরাধে তারা প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে। আজও পাকিস্তান এই গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি।
২. বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড
বিজয়ের ঠিক আগে ১৪ই ডিসেম্বর জাতিকে মেধাশূন্য করার হীন উদ্দেশ্যে পাকিস্তান তাদের এদেশীয় দোসরদের মাধ্যমে শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
৩. গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট প্রত্যাখ্যান
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তান ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়, যা ছিল এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত।
৪. ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর প্রথম আঘাত
১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে মুছে দেওয়ার যে চেষ্টা পাকিস্তান করেছিল, তা ছিল এদেশের অস্তিত্বের ওপর প্রথম বড় বিশ্বাসঘাতকতা।
৫. অর্থনৈতিক শোষণ ও পাচার
পূর্ব পাকিস্তানের রক্ত জল করা আয়ে পশ্চিম পাকিস্তান উন্নত হয়েছে। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান আজও বাংলাদেশের ন্যায্য ৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও বৈদেশিক মুদ্রার অংশ বুঝিয়ে দেয়নি।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: আধুনিক ক্রিকেটীয় ষড়যন্ত্র
২০২৬ সালে এসে ক্রিকেট কূটনীতিতেও পাকিস্তানের রহস্যজনক ভূমিকা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
- আইসিসি-র বৈষম্য: নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তান ‘হাইব্রিড মডেল’ পেলেও বাংলাদেশের একই দাবি সরাসরি নাকচ করা হয়েছে।
- বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার: ২৫শে জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পাকিস্তানের নিরবতা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
- বিসিবি-র আর্থিক বিপর্যয়: এই বহিষ্কারের ফলে বিসিবি প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, যা তাদের বার্ষিক আয়ের ৬০%।
- পিসিবি-র ভূমিকা: পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি মুখে সহমর্মিতা দেখালেও আইসিসি-র ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উপসংহার: ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৬-এর ক্রিকেটীয় ষড়যন্ত্র—ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে পাকিস্তান প্রমাণ করেছে তারা বাংলাদেশের সহমর্মী নয় বরং সুযোগসন্ধানী এবং বিশ্বাসঘাতক।

Comments
Post a Comment